এরিয়া ফিফটি ওয়ানে আসলেই কি এলিয়েন আছে? Area 51 | Explained by Enayet Chowdhury

আজকে আমরা কথা বলবো এলিয়েন নিয়ে! 

প্রব্লেম হইতেছে বব লাজার(Bob Lazar) নামে একজন লোক আছে,

Bob Lazar with his teeth😁

যিনি ১৯৮৯ সালের মে মাসে লাস ভেগাস টিভি স্টেশন এ জর্জ ন্যাপ নামের একজন রিপোর্টার এর ইন্টারভিউতে আসেন এবং এই লোক দাবি করেন তিনি একটা অদ্ভুত আকাশযানের গবেষণার দায়িত্ব পাইসিলেন যা অ্যান্টি ম্যাটার এর মাধ্যমে চলতো এবং এইটার জ্বালানি ছিল “এলিমেন্ট 115″(ELEMENT 115) নামের একটা মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা 115। মজার ব্যাপার হইতেছে এই এলিমেন্ট 115 সেই ১৯৮৯ সালে তখনও আবিষ্কৃত হয় নাই এবং এটি প্রথম পৃথিবীতে আসে মাত্র ২০০৩ সালে। আমরা যেটাকে মস্কোভিয়াম (Moscovium) নামে চিনি!

Mc🐸👀

কিন্তু এইটা নিয়ে কাজ করার কথা বব লাজার সেই ১৯৮৯ সালেই বইলা গেছিলেন। এই লোককে মোটাদাগে একজন কনস্পিরেসি থিউরিস্ট (Conspiracy theorist) হিসেবেই সবাই চিনে,

এবং উনি যেই জায়গাটায় কাজ করছেন বলে দাবি করছিলেন সেইটাই হলো প্যারাডাইস র‍্যাঞ্চ(Paradise Ranch)/ওয়াটার টাউন(Water Town)/ড্রিম ল্যান্ড(Dream Land) বা যেই নামে আমরা সবাই এই জায়গাটাকে চিনি “Area 51″।প্রকৃতপক্ষে জো রোগান (Joe Rogan) এর পডকাস্ট এর মধ্যে উনি দাবি করছিলেন যে উনি এক্সেক্টলি এরিয়া 51 এ কাজ করতেন না, এর থেকে আরো দক্ষিণে আরেকটা সিক্রেট সাইট আছে যেটার নাম হচ্ছে এস4(S4), উনি ওইখানে কাজ করতেন।

এই এরিয়া 51 কেন এত বিখ্যাত? এইটার ভিতরে আসলেই কোনো এলিয়েন এক্টিভিটি চলতো কিনা? একদম সম্প্রতি ২০১৯ সালে “স্টর্ম এরিয়া 51” এবং “নারুতো রান” এর ব্যাখ্যা সহ এই পুরো ব্যাপারটি আমি আজকে আলোচনা করবো। তো চলুন,শুরু করা যাক! 

 

প্রথমে আসা যাক, “নারুতো রান”(Naruto Run) জিনিসটা কি? আমি জানি আমার মত অনেকেই আছেন যারা এই “নারুতো রান” সম্পর্কে জানেন না। জাপানিজ একটা মাঙ্গা সিরিজ আছে, (এনিমে আর মাঙ্গা দুটো কিন্তু আলাদা জিনিস,এটা মনে রাইখেন)এই মাঙ্গাতে একটা যুবক নিঞ্জার স্টোরি বলা হয় যার নাম “নারুতো উজুমাকি”(Naruto Uzumaki)।

উজুমাকি

ওর স্বপ্ন হইতেছে ওকে একদিন সবাই এক নামে চিনবে এবং ও ওর গ্রামের সরদার টাইপ এর কিছু একটা হবে যেটাকে ওরা হোকেজ (Hokage) নামে ডাকে। ওর দৌড়টা খুব বিখ্যাত, হাত দুইটা পিছনে নেয়, মাথাটা সামনে নেয় এবং এর মাধ্যমে বলা হয় এরোডাইনামিকালি নাকি সে অনেক দ্রুত সামনে এগিয়ে যেতে পারে।

যদিও এটার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কোনোভাবেই নাই বরং এইভাবে দৌড়াইলে আপনার এনার্জি আরো বেশি লস হইতে পারে আর এইটা যদি আসলেই কাজে লাগতো, তাহলে আপনি অলিম্পিকে স্প্রিন্টের মধ্যে উসাইন বোল্টরে এভাবেই দৌড়াইতে দেখতেন, ও যেভাবে দৌড়ায় সেভাবে দৌড়াইতে দেখতেন না। 

২০১৯ সালের ২০শে জুন, জো রোগান এর পডকাস্ট এ বব লাজার কে নিয়ে আসা হয় এবং সেইখানে উনি আবারো “এরিয়া 51” এর ভিতরে এই এলিয়েন নিয়ে যে বিভিন্ন কার্যকলাপ হইতেছে, এগুলোর ব্যাপারে বলতে থাকে।তো জো রোগান এর বিশাল লিসেনার(listener) বেইজ এর মধ্যে একজন ছিলেন ম্যাটি রবার্টস(Matty Roberts)

এই ছেলে একজন কলেজ স্টুডেন্ট, এনিমে দেখে, ক্যালিফোর্নিয়াতে থাকে, ভিডিও গেম টেম খেলে। ও ফেসবুকের মধ্যে মজা করে একটি ইভেন্ট খুলছে, ইভেন্টটার নামই হচ্ছে “স্টর্ম এরিয়া 51″(Storm Area 51)। এরিয়া 51 এর ভিতরে সবাই দৌড়ায় গিয়ে ভাইঙ্গা চুইরা ফেলে। এটা একটা জোক(Joke) করা ইভেন্ট ছিল।

They can’t stop all of us.✊

প্ল্যানটা ছিল ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ নেভাডা স্টেট এর রেচেল নামের একটি শহর আছে, এরিয়া 51 এর কাছাকাছি, ওইখানে সবাই মিলে একসাথে জড়ো হবে এবং সবাই একবারে দৌড়ায় যেয়ে এরিয়া 51 এর যত ডিফেন্স আছে ওগুলো সরিয়ে দিয়ে ভিতর গিয়ে সবাই নিজ চক্ষে দেখবে যে ভিতরে আসলে কী আছে।

এর পরে যেটা হইসে, সেটা ইতিহাস। প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন মানুষ এই ইভেন্ট এর মধ্যে ইন্টারেস্ট প্রকাশ করছে যে ওরা নারুতো রান এর মাধ্যমে এরিয়া 51 এর ভিতরে ঢুকবে আর ভিতরে গিয়ে এলিয়েন আসলেই আছে কিনা সেটা দেখবে। ইউএস এয়ারফোর্স থেকে সরাসরি বলা হইসে যে এই এরিয়া 51 হচ্ছে US এয়ারফোর্স এর জন্যে একটা ওপেন রেঞ্জ। এখানে ওরা খোলাখুলি গোলাগুলি করে।

সেই ম্যাটি রবার্টসকে কিন্তু এফবিআই কল ও করছিলো এবং তারপর যখন সংবাদ মাধ্যমগুলো তার সাক্ষাৎকার নিতে গেসে, সে বলছে “আরেহ এইটা তো আমি মজা করে করছিলাম কিন্তু ভাবতে পারি নাই যে এত মানুষ এসে পরবে!”

He he he😅

পরবর্তীতে এই নারুতো রান আসলে হয় নাই। এর বিকল্প হিসেবে দুইটা মিউজিক ফেস্টিভাল হইছিলো যার একটার নাম ছিল “এলিয়েন স্টক” আর আরেকটা হলো “স্টর্ম এরিয়া 51 বেজ ক্যাম্প“।

শেষ পর্যন্ত সেই ৩.৫ মিলিয়ন মানুষ আসলে আসে নাই, লাস্ট পর্যন্ত ধরা হইতে ছিল ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষ ফেস্টিভাল টা তে আসবে।তবে এরিয়া 51 এর মধ্যে আসলেই এলিয়েন আছে কিনা বা এলিয়েন একটিভিটি চলে কিনা, তার জন্যে আমাদের আরেকটু পিছনে যাইতে হবে।

 

এরিয়া 51 আসলে মূল যে এরিয়ার ভিতর সেটাকে বলা হয় নেভাডা টেস্ট অ্যান্ড ট্রেইনিং রেঞ্জ(Nevada Test and Training Range) বা NTTR। এটা আসলে US এয়ারফোর্স এর একটা বেইজ যেখানে ওরা বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট ও ট্রেইনিং চালায়। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে নিউ মেক্সিকোর রসঅয়েল(Roswell) এ বজ্রসহ ঝড় হইতেছিল,এবং ওইদিন একটা রহস্যজনক এয়ারক্রাফট মাটিতে ক্র্যাশ করে ওই এলাকার মধ্যে।

US এয়ারফোর্স অতি দ্রুত সেখান থেকে কিছু ডেব্রিজ(Debris) বা নমুনা সংগ্রহ করে এবং তারা এই সিদ্ধান্ত দেয় যে এটি একটু ওয়েদার (Weather) বেলুন এর ডেব্রিজ ছিল।

এরপর অনেকদিন হয়ে যায়,কিন্তু ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে একজন নিউক্লিয়ার ফিজিসিস্ট স্ট্যানটন ফ্রিডম্যান(Stanton Friedman),

উনি এই স্টোরিটা আবার পড়েন এবং উনি দাবি করতে থাকেন যেই ওয়েদার বেলুন এর কথা US এয়ারফোর্স মানুষকে বলছে, সেটা আসলে কোনো ওয়েদার বেলুন ছিল না বরং ঐটা একটা এলিয়েন স্পেসশিপ ছিল এবং ওইটার ভিতর এলিয়েনদের বডিও পাওয়া গেছে। এটাকে উনি কসমিক ওয়াটারগেট(Cosmic Watergate) নাম দিসিলেন, ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সাথে মিলিয়ে।

পরবর্তীতে দেখা যায় এই বেলুনটা আসলে সরকার এর একটা টপ সিক্রেট সার্ভেলিয়ান্স বেলুন ছিল যেটা সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে কোনো নিউক্লিয়ার টেস্ট হইতেছে কিনা, সেটা পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহৃত হতো!

কারণ ওই সময়টা কিন্তু কোল্ড ওয়ার বা শীতল যুদ্ধের সময় ছিল আর আপনারা তো জানেন যে কোল্ড ওয়ারের সময় আমেরিকা আর সোভিয়েত-রাশিয়ার মধ্যে কী হইতেছিল।এরিয়া 51 এ কাজ করার সময় ওইখানে যে ওয়ার্কাররা ছিল,তাদের অনেকের মধ্যে কিছু আশ্চর্যকর ডিজিজ বা রোগ দেখা দেয়।

যেমন: ওয়াল্টার এস কার্জা (Walter S. Kasza) ৭৩ বছর বয়সে মারা যান। প্রথম প্রথম উনি অনেক কাশি দিতেন এবং ডাক্তাররা বুঝতেই পারতো না যে সে আসলে কেন কাশতেছে। অনেকদিন পর তার কিডনি ক্যান্সার ধরা পরে।

আরেকজন শিট মেটাল ওয়ার্কার (Sheet Metal Worker) রবার্ট ফ্রস্ট(Robert Frost), এই লোক ৫৭ বছর বয়সে মারা যান। ডাক্তাররা যখন পরে তার Biopsy করে, তার টিস্যুর মধ্যে এমন কিছু ইন্ডাস্ট্রিয়াল টক্সিন পাওয়া যায় যা সাধারণত কোনো মানবদেহে পাওয়া যাওয়ার কথা না।

 

এতক্ষণ ধরে যা যা বললাম, এগুলোর আসলে কোনো ভিত্তি/প্রমাণ নাই দালিলিক ভাবে।⁠🐸

এসব মিথ এ অনেকেই বিশ্বাস করে,অনেকেই করে না।যেমন সেই ১৯৪৭ সালের যেই ঘটনাটা ছিল,সেটা ১৯৯৭ এ করা সিএনএন (CNN) এর একটা পোল বলে, আমেরিকান জনগণকে সেই রসঅয়েল ইনসিডেন্ট এর সব তথ্য প্রমাণ দিয়ে দেখানোর পরেও ৮০% আমেরিকান তখনও বিশ্বাস করতো যে আসলে সরকার এলিয়েন নিয়ে কিছু একটা গবেষণা করতেছে এবং মানুষের কাছ থেকে সেটা গোপন করতেছে।

এবার আসা যাক,এরিয়া 51 কে আসলে সরকার কোন কাজে ব্যবহার করতো সেই কোল্ড ওয়ার এর সময় থেকে… দেখেন, তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের উপরে নজরদারি করার জন্যে প্রেসিডেন্ট Eisenhower এমন ধরনের স্পেসক্রাফট চাচ্ছিলেন যেগুলো হবে নন-মিলিটারি, যেন দেখে বুঝা না যায় যে এগুলো হইতেছে মিলিটারি টাইপ স্পেসক্রাফট।

ওরা যেটা করবে,সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর রিকনাইসেন্স(Reconnaissance) করবে (রেকি করা যেটাকে বলে) যে ” সোভিয়েত ভাই, তোরা আসলে কী করতাসোস, কী কী নিউক্লিয়ার টেস্ট মেস্ট করতাসোস!” এগুলো জেনে US এর কাছে ডাটা দেওয়া। এই কাজটার ঘিলুওয়ালা যে জায়গাটা আছে সেটা দেওয়া হয় CIA কে আর একটা কোম্পানি এ সকল এরোস্পেস ডিজাইন করছিল যে কোম্পানিটির নাম ছিল “লকহিড” (Lockheed)।

এসময় যদি এই কাজটা করা হতো,তাহলে হয়তো কাজটা স্পেসএক্স পাইতো বলে আমার মনে হয়। “লকহিড” এর একটা প্রজেক্ট ছিল যার নাম ছিল “লকহিড এডভান্সড ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট”(Lockheed Advanced Development Project) বা এটাকে ছোট্ট করে “স্কাংক ওয়ার্কস”(Skunk works) বলা হয়। CIA এর সব বুদ্ধি-শুদ্ধি দিসে এবং লকহিড তাদের মতো করে একটা স্পাই প্লেন বানাইসে যার নাম U-2 SPY PLANE আর প্রজেক্টটার নাম হচ্ছে “প্রজেক্ট একুয়াটোন”(Project Aquatone)।

 

এখন এই U-2 SPY PLANE টা অনেক উঁচুতে উড়তে পারতো তখনকার হিসাবে,যেই সময়টা ছিল মধ্য ৫০ এর দশক, বেশিরভাগ এরোপ্লেন তখন ১০,০০০-২০,০০০ ফিট উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারতো, এর বেশি উচুতে উড়তে পারতো না। মিলিটারি এয়ারক্রাফট যেগুলো ছিল, ওগুলোও ৪০,০০০ ফিট উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারতো। কিন্তু এই U-2 SPY PLANE, সেটা তখনকার সময় অনুযায়ী উড়তে পারতো প্রায় ৬০,০০০ ফিট উচ্চতা পর্যন্ত যেটা এই প্লেনটাকে ইউএফও (UFO) হিসেবে ভাবার এক অন্যতম কারণ।

১৯৫৫ সালের জুলাই এর ২৫ তারিখ, এই U-2 SPY PLANE টাকে টেস্ট করার জন্যে একটা জায়গায় নেওয়া হয়, সেই জায়গাটার নাম হচ্ছে গ্রুম লেক (GROOM LAKE)। এই গ্রুম লেকই কিন্তু এরিয়া 51 এর ভিতর অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং বিখ্যাত একটা জায়গা। এরপর ১৯৫৬ সালের জুনের ২০ তারিখ, U-2 কে অফিসিয়ালি ইউরোপিয়ান সার্ভেলিয়ানস এর জন্যে পাঠানো হয়, যেটা গিয়ে পোল্যান্ড আর ইস্ট জার্মান এর উপর দিয়ে ঘোরাফেরা করে চলে আসে কিছু ছবি টবি তুলে। USA তে যখন ফিরে আসে, তখনও USA সন্তুষ্ট ছিল যে ছবিগুলো অনেক সুন্দর আসছে আর ভালো কোয়ালিটির আসছে। ৪ জুলাই, ১৯৫৬ সালে প্রথম এই  U-2SPY PLANE কে সোভিয়েত ইউনিয়ন এর মেইন জায়গাটার মধ্যে পাঠানো হয়, তখন এই পুরো অপারেশনটা চালাচ্ছিলো রিচার্ড বিসেল (Richard M. Bissell Jr.) যিনি ঐতিহাসিকভাবে CIA এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন এজেন্ট।

প্রধানত, U-2 SPY PLANE চাইতেছিলো দেখতে সোভিয়েত এর যে সাবমেরিন প্রোগ্রামটা আছে যেটা চলতেছিলো লেনিনগ্রাড (Leningrad) এর একটা শিপইয়ার্ডে। ওরা মেইনলি চাইতেছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বোম্বারদের ধরতে মানে যারা বোম্ব ফিট করে। কিন্তু এর মধ্যেই U-2 SPY PLANE এ একটা প্রব্লেম দেখা গেলো, USA দেখতে পেলো যে এই প্লেনটা সোভিয়েত রাডার এর মধ্যে মাঝে মাঝে ধরা পরে যায়, রাডারটিকে পুরোপুরি ফাঁকি দিতে সক্ষম না। বিসেল যেটা প্ল্যান করলো, এই স্পাই প্লেনগুলোর যে ক্রস সেকশন আছে ওইটাকে কিভাবে কমিয়ে ফেলা যায়, কারণ এতে করে রাডারকে ফাঁকি দেওয়া অনেক বেশি সহজ হবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর এডওয়ার্ড পুর্সেল (Dr. Edward Purcell), উনি মেইনলি আবিষ্কার করছিলেন কিভাবে রাডার এমিশন(Emission) কে অ্যাবসর্ব(Absorb) করে ফেলা যায়! তাকে এই প্রজেক্ট এর মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হইসিলো।

 

এইযে রাডার কে ক্যামোফ্লেজ(Camouflage) করার একটা প্রজেক্ট USA হাতে নিলো, এটাকে বলা হয় প্রজেক্ট রেইনবো (Project Rainbow)। এই প্রজেক্ট রেইনবো এর টেস্টিং এবং যাবতীয় যা কিছু আছে, সেটাও করা হইসিলো গ্রুম লেক এ, যেটা ছিল এই এরিয়া 51 এর ভিতর। কিন্তু টেকনোলজিটা শেষ পর্যন্ত কার্যকরী মনে না হওয়ায় ১৯৫৮ সালে এটাকে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

কিন্তু CIA এর তো এখন এরকম প্লেন লাগবে যেটা সোভিয়েত ইউনিয়নের উপরে ভালোমত সার্ভে চালাতে পারবে এবং রাডার এ ও ধরা খাবে না।তাই এটার জন্যে নতুন একটা প্রজেক্ট নেওয়া হয় যেটার নাম প্রজেক্ট অক্সকার্ট(Project Oxcart)। এই প্রজেক্ট অক্সকার্ট এর আন্ডারেই ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ সালে বিখ্যাত A-12 প্লেন কে গ্রুম লেক এ নিয়ে যাওয়া হয়। এই A-12 প্লেনটা দুটো কারণে অনেক বিখ্যাত:

১. ইলন মাস্ক এর বাচ্চার নামের একটা অংশ কিন্তু A-12(X AE A-12),(সম্প্রতি আপনি দেখবেন গ্রাইমস এর সাথে তার বিয়ে হওয়ার পর যে বাচ্চাটা হইছে এবং A-12 তার খুবই ফেভারিট একটা প্লেন)

২.ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যে ব্ল্যাক শিল্ড মিশন গুলো পরিচালিত হয়,তার একটা অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল এই A-12 প্লেন।

এটার টেস্টিং ও কিন্তু করা হইসে সেই এরিয়া 51 এর ভিতরে।১৯৬৭ সালের ৩০ শে মে, এই A-12 প্লেন নর্থ ভিয়েতনাম এর উপর দিয়ে উড়ে যায় এবং কোনো প্রকার রাডার সিগনাল এর মধ্যে ধরা খায় নাই! উত্তর ভিয়েতনামিজ এবং চাইনিজদের চোখে ওরা পরেই নাই।

 

“স্কাঙ্ক ওয়ার্কস” যে প্রজেক্টটা ছিল লকহিড এর, সেটার শেষ পর্যায়ে ওরা একটা ইনোভেটিভ টেকনোলজিক্যাল চেঞ্জ আনলো, নতুন একটা প্রজেক্ট, যে প্রজেক্ট এর নাম “প্রজেক্ট হ্যাভ ব্লু”(Project Have Blue) যেটার আন্ডারে F-117 Nighthawk নামের একটা প্লেন আনা হইলো যেটা ছিল পৃথিবীর প্রথম চোরাই বোম্বার!

এতদিন পর্যন্ত সেই U-2 বা A-12,এরা কিন্তু সাথে করে কোনো বোম্ব নিতে পারতো না। এই F-117 কে এমনভাবে ডিজাইন করা হইসিলো যে এটা রাডার থেকে অবশ্যই বেচেঁ থাকবে এবং সাথে করে বিভিন্ন পেলোড (Payload) নিয়ে যেতে পারবে যেমন বোম্ব হইতে পারে, এমনকি নিউক্লিয়ার ওয়েপন ও নাকি এটা নিতে পারতো। ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরের ১ তারিখ, এই F-117 Nighthawk কে টেস্ট করা হয় এবং সে টেস্টিং এর জায়গাটাও ছিল সেই গ্রুম লেক। দেখেন, ইতিমধ্যে ১৯৭৭ সাল কিন্তু হয়ে গেছে, এরপরও USA টেস্টিং এর জন্যে কোন জায়গাটাকে বারবার বাইছা নিতেছে? সেই পুরাতন গ্রুম লেক, সেই পুরাতন এরিয়া 51। একটা ব্যাপার খেয়াল রাখবেন, এই টেস্ট ফ্লাইট গুলা বা প্লেনগুলা আছে, এগুলা কিন্তু বানানো হইসে এরিয়া 51 এর বাইরে কিন্তু এগুলাকে টেস্ট করা হইসে এরিয়া 51 এর ভিতরে। তাহলে অভারঅল জায়গা থেকে আপনি যদি তাকান, তাহলে দেখতে পাবেন যে USA এর যত সিক্রেট মিশন আছে যেগুলো জনসম্মুখের আড়ালে নিয়ে করতে হবে। কারণ সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর আপনি সার্ভেলিয়ান্স চালাবেন, এটা যদি আপনি জনসম্মুখে প্রকাশ করে ফেলেন তাহলে এটা হয়তো খুব ভালো ফলাফল নাও আনতে পারে!(You know, what I mean…) এই এরিয়া 51 একটা পারফেক্ট জায়গা যেখানে সিক্রেট মিশনগুলো ভালোভাবে চালানো যায়। US এয়ারফোর্স কিন্তু পরবর্তীতে এই এরিয়া 51 কে একদম Restricted করে দেয় এবং এটাকে একটা টপ সিক্রেট মিলিটারি বেজ হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু তারপরেও MrBeast এর ভিডিওতে কিন্তু দেখাইসে কে একটা খরগোশ ধুম করে এরিয়া 51 এর ভিতরে ঢুকে পরছে এবং কেও ওটাকে কিছু বলে নাই। ১ বছর পর পর্যন্ত কিন্তু জেল দেওয়ার কথা বলা হইসিলো।

ভিডিওটার লিংক: https://youtu.be/TOcGSwJBPMQ

 

ওকে,এবার আসি মিম রিভিউ তে।

১. ইদানিং দেখা যাইতেছে যে সাদমানের সাথে এরিয়া 51 এর মতই কিছু ঘটনা ঘটতেছে। আমরা এখান থেকে বুঝতেছি যে সাদমান এর সাথে সবসময় কেও একজন থাকে, যার সাথে সে চিল করতে থাকে। একচুয়ালি ট্রাইনোমিয়াল পডকাস্ট এখন আর ট্রাইনোমিয়াল নাই, কারণ দেখা যায় তিনজন আসলে সাদমানের সাথের জনকে সহ চারজন।😐

(১)

২. Actually পদ্মা সেতুর পিলার নিয়ে এত কান্নাকাটি করার কিছুই নাই। এটাকে ফেরির ধাক্কার মতোন এক্সট্রিম ইভেন্ট এর কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হইসে। তবে ইদানিং একটু বেশিই ঘনঘন ধাক্কা লাগতেছে না?🙄

(২)

৩.আমি মোটেই এত রাগ করিনা।আমাকে যদি ভালোমত পঁচায়, তাহলে আমি খুবই খুশি হই। তবে পঁচানো টা ভালো হইতে হবে!

(৩)

৪. দেখেন আমি কিন্তু কোনো হারবাল কোম্পানির নাম ডিরেক্ট বলিনি, এটা যেকোনো হারবাল কোম্পানি হইতে পারে। অলিম্পিকে গোল্ড জেতার কারণে বাঙালি জাতির গড় টেস্টোস্টেরন লেভেল যদি বেড়ে যায়, তাহলে যে কোনো হারবাল কোম্পানির ক্ষতি হইতে পারে।

(৪)

৫. Actually জিনিসটা আমি ভিডিওর ভিতরই দেখাইসি, উনি শুধু স্ক্রিনশট নিয়ে দিছে এখানে। একজন মিমার হিসেবে উনার কী কৃতিত্ত্ব আমি সেইটা বুঝতেছিনা বাট জিনিসটা ভালো। আপনি যদি এখন সাদমানের চ্যানেলে যান, তাইলে ২০১৬ সালে ওর প্রথম যেই ভিডিওটা যেইটা হচ্ছে এই চুল কাটার ভিডিও। যেটা আমার খুবই পছন্দের একটা ভিডিও। আমি এই ভিডিওটা দেখলে নস্টালজিক ফিল করি। ওইখান থেকেই আমি এই সিনটাকে রিক্রিয়েট করছি। সত্যি কথা হইলো সেলুনে বসার পরে আর কোনো কাজ না থাকায় যা পাইছি তাই রেকর্ড করছি।

(৫)

 

ওকে…আমি আশা করি এরিয়া 51 সংক্রান্ত কিছু মিথ এবং সাথে এইটার যেই এরোপ্লেনগত ইতিহাসটা আছে, ওই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটা আপনি বুঝতে পারছেন। এরিয়া 51 নিয়ে আরো আলোচনা করা যায় সামনে, কিন্তু ওগুলো মেইনলি মিথ নিয়ে আলোচনা। সত্যি হইতেও পারে, নাও হইতে পারে। টেসলার মত কাহিনী, কখন আবার কোন সায়েন্স গ্রুপে গালাগালি শুরু হয়ে যায় আমি জানি না…👀

 

পুরা ভিডিও দেখেন ইউটিউবে!

 

Research Affiliates:

Labid Rahat: https://www.youtube.com/channel/UCTio…

Alif Arshad: https://www.facebook.com/alif.arshad.b

 

For Gaining more knowledge on this topic:

Area 51—facts and information

Area 51: First UFO Controversy in US Was a Secret Military Project

Eamonn Investigates: Alien Autopsy

How an Alien Autopsy Hoax Captured the World’s Imagination for a Decade

Ray Santilli, Gary Shoefield Talk the Real Alien Autopsy and the New Film of the Same Name

Area 51: Secrets under the sun

I-Team tease video of interview with Bob Lazar

CIA acknowledges its mysterious Area 51 test site for first time

Head of Pentagon’s secret ‘UFO’ office sought to make evidence public

Half a million people signed up to storm Area 51. What happens if they actually show?

Area 51 and aliens: the myth, the meme, and the strange reality, explained

The government admits it studies UFOs. So about those Area 51 conspiracy theories…

Area 51 officially acknowledged, mapped in newly released documents

The secret history of Area 51, explained by an expert

Area 51 hosted tests for ‘secretly acquired’ Soviet fighter jets

The Real Story Behind the Myth of Area 51

Joe Rogan Experience #1315 – Bob Lazar & Jeremy Corbell

I-Team: A look back at 1989 Bob Lazar interview; it started new UFO conversations

Storm Area 51: Hundreds of people gather at US military base to ‘see them aliens’

Laughs, Masks and a ‘Sense of Community.’ Most People Came in Peace to the Area 51 Raid. Here’s What Actually Happened

I ‘stormed’ Area 51 and it was even weirder than I imagined

Storm Area 51: The joke that became a ‘possible humanitarian disaster’

“Storm Area 51” weekend had neither raids nor aliens. But it wasn’t a bust.

Area 51’s Most Outrageous Top Secret Spy Plane Projects

Nevada Military Aviation and the Cold War

CIA’s secrets revealeed: a million-dollar check. Area 5

Written by

Girgiti

9 Posts

We're Girgiti. We provide blog managing services to renowned YouTubers. Currently working with Enayet Chowdhury. Hoping to enhance the working area soon.E-mail: [email protected] | Follow us on facebook: Girgiti
View all posts

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *