নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে কি ব্যর্থ বলা যাবে? Student Protest, Safe Road in Bangladesh | Enayet Chowdhury

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন। 

জাবালে নূর পরিবহন এর বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ এর দুই শিক্ষার্থী নিহত হবার পর ২০১৮ সালে এমন এক আন্দোলন সংঘটিত হয়, যার ফলে সরকার বাধ্য হয় সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন প্রণয়ন করতে। সরকারের দুইজন মন্ত্রীকে ক্যাবিনেট থেকে সরে দাঁড়াতে হয় এবং সড়ক দুর্ঘটনায় কেও মারা গেলে এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়। এই অবস্থায় ২০২১ সালে এসে রাজধানীর গুলশান এর গোল চত্বর পার হবার সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর একটি ময়লার ট্রাক নরটডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসানকে চাপা দিয়ে চলে যায় এবং এর ফলে সে মারা যায়। প্রশ্ন হলো এই ঘটনাগুলো আসলে কেনো বারবার ঘটছে? আর শিক্ষার্থীদের করা এই “নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন” গুলোকে আপনি কি এক কথায় ব্যর্থ বলবেন নাকি সফল বলবেন? এই পুরো ঘটনাটি আমি আজকে ব্যাখ্যা করবো। তো চলুন,শুরু করা যাক।

 

প্রথমে বাংলাদেশ রিলেটেড কিছু তথ্য আপনাকে দেওয়া দরকার। বুয়েট এর অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট(Accident Research Institute) বা ARI এর তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রত্যেক বছর প্রায় ৫০০০-৭০০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয় এই অ্যাক্সিডেন্ট এর কারণে। জাতীয় স্বাস্থ্যখাতে যেই বাজেট দেওয়া হয়, তার প্রায় ৩০% খরচ হয় এই রোড অ্যাক্সিডেন্ট গুলাতে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হইতেছে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য, যেইটা বাংলাদেশের পুরা GDP এর প্রায় ২%! বুঝতেই পারতেছেন বাংলাদেশের সড়ক দূর্ঘটনার ব্যাপারটা এতোটা এক্সক্লুসিভ এবং এতটা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছায় গেছে।

 

২০২১ এ যখন আবার আন্দোলনটা শুরু হইসে, আমি আবার আপনাদেরকে একটু নিয়ে যাইতে চাই ২০১৮ সালের যে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন ছিলো সেই আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে আমরা ভালো কী কী জিনিস পাইসি। সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮(Bangladesh Road Transport Act 2018), এইটা প্রণয়ন করা হইসে এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ। এই আইনটা নিয়ে আপনারা ইদানিং অনেক কথা শুনবেন, কেন শুনবেন তা একটু পরে বলতেছি। ২ জন মন্ত্রীকে ক্যাবিনেট থেকে সরে দাঁড়াইতে হয়, একজন হচ্ছে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান(Shajahan Khan) এবং আরেকজন হচ্ছেন এলজিআরডি(LGRD-Local Government and Rural Development) মন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা(Mashiur Rahaman Ranga)।

Killing Smile
আরে ভাই আমার নাম এনায়েত চৌধুরী, এনায়েত উল্লাহ না -_-

শাজাহান খান তো ছিলেন বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি এবং মশিউর রহমান রাঙ্গা ছিলেন বাংলাদেশ পরিবহন মালিক ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান। এত বড় একটা কাজ সম্ভবই হইসিলো ২০১৮ সালের সেই নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন এর কারণে। বাস মালিকরা এইটা বইলা রাজি হইসিলো যে এখন থেকে ওরা বাস ড্রাইভারদেরকে মাসিকভাবে পে(Pay) করবে, দৈনিক যে পে করার ব্যাপারটা সেইটা ছিল না। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার, ২০২০ একটা ইন্টারভিউতে ঢাকা রোড ট্রান্সপোর্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ(যাকে খুব সম্প্রতি দুদক থেকে তলব করা হইছে এবং যার নামের সাথে আমার নামের একটা মিল আছে), উনি বলছিলেন ওই ঘটনার পরেও বা ওই আন্দোলনের পরেও মাত্র ৬০% বাসকে ওরা কনট্র্যাক্ট এর আওতায় আনতে পারছে যারা মাসিক ভিত্তিতে বাস ড্রাইভারদের বেতন দেয়। কিন্তু ৪০% বাস তখনও বাস ড্রাইভারদের দৈনিক ভিত্তিতে বেতন দিতো। তখন খুব একটা বেশি প্রেশার দেওয়া হয় নাই কারণ তখনকার সময় এই বিষয়টার থেকে তারা  বেশি ফোকাস করতেছিলো সড়ক অবকাঠামোটাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এই অ্যাক্সিডেন্ট গুলাকে প্রতিরোধ করার জন্য।

 

যদিও এগুলা খুবই পজিটিভ কিছু আউটকাম ছিল, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই এগুলোর প্রভাব আস্তে আস্তে সরে যাইতে শুরু করে। আপনাদেরকে ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন এর যে ৯ দফা দাবি ছিলো, তার মধ্যে ২টা মাত্র দাবি দেখাই।

1. All Intra-city buses must stop and pick up students when they ask.(স্টুডেন্টরা বাসকে দাঁড়াইতে বললে বাসকে থামতে হবে এবং ওদেরকে তুলতে হবে।)

2. Students should be allowed to pay discounted fares in every part of the country including Dhaka.(ঢাকাসহ দেশের যেকোনো জায়গায় ছাত্ররা কম ভাড়ায় বা ছাড় দেওয়া ভাড়ায় ভ্রমণ করার বৈধতা পাবে।)

এই দুইটা দাবি কি পরিচিত লাগতেছে? এখনকার যে আন্দোলনটা হইতেছে, এইখানে যে ১১ দফা দাবি হইসে, তার মধ্যেও কি এই ২টা দাবি আছে না? এবং আগের থেকে অনেক বেশি জোরালোভাবে ছাত্রদের যে হাফ পাশ করার দাবি এবং বাসের মধ্যে যে ছাত্রদেরকে তুলতে দেয় না, এই দাবিগুলা ১১ দফা দাবির ক্ষেত্রে ২০২১ সালে এসে খুব সামনে উঠে আসছে যা ২০১৮ এর ৯ দফা দাবির সময় ততটা সামনে উঠে আসে নাই।

💝

এইবারের নতুন ১১ দফা দাবির ক্ষেত্রে আরেকটা জিনিস আপনাদেরকে হাইলাইট করবো। একটা দাবি হচ্ছে, নরমাল ট্রাক কিংবা ময়লার ট্রাক এবং অন্যান্য যে ভারী যানবাহনগুলা আছে, ওইগুলা চলার সময়সীমা রাত ১২ টা থেকে সকাল ৫ টা পর্যন্ত এইখানে নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। এইটা এইবারের ১১ দফার একটা দাবি, যেটা আগের ৯ দফাতে ছিল না। এইখান থেকে আপনি বুঝতে পারবেন, দাবিগুলা আসলে যে পেশ করা হয় এগুলা অনেকটাই বর্তমান প্রেক্ষাপটের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়, যেখানে নটরডেম কলেজের সেই ছাত্র কিন্তু মারা গেছিলো একটা ময়লার ট্রাকের ধাক্কাতেই!

আপনারা যদি ২০১৮ এর ৯ দফা দাবি এবং ২০২১ এর এই ১১ দফা দাবির মধ্যে যদি একটা তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেখতে চান, লাবিদ একটা খুব সুন্দর এনালাইসিস দাঁড় করাইসে যার লিংক এইখানে দিয়ে দিলাম।আপনারা চাইলে দেখে আসতে পারেন।

Labid Rahat এর কম্পারেটিভ অ্যানালাইসিসের লিংক: https://docs.google.com/document…

 

মজার ব্যাপার হচ্ছে আন্দোলন করার পরে আইন প্রণয়ন পর্যন্ত আমরা দেখি এবং মনে করি জিনিসটা সফল হয়ে গেছে। কিন্তু আইন প্রণয়ন এর পরে কী হইতেছে এই ঘটনাগুলা তেমন একটা হাইলাইট পায় না। তাইলে চলেন দেখি ২০১৮ সালে যে সড়ক পরিবহন আইনটা করা হইসিলো তার এখন কী অবস্থা? ২০১৮ সালটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সাল এবং মজাদার একটা সাল। সড়ক পরিবহন আইন এর সাথে আরেকটা আইন প্রণয়ন করা হইসিলো, বাংলাদেশ ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট যেটার ইমিডিয়েটলি ইফেক্ট আসছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে এটাকে ১ বছর পিছিয়ে দেওয়া হইসিলো পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট এর কারণে। তার আগে একটু জেনে নেওয়া দরকার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ তে আসলে কী কী ছিলো!

  • ওইখানে বলা হইসিলো প্রত্যেকটা লাইসেন্স এর এখন থেকে ১২ পয়েন্ট থাকবে, ৯ ধরনের ট্রাফিক ভায়োলেশন আছে, যেমন: আপনি যদি বেশি স্পিডে চালান, বেশি জোরে হর্ন বাজান, তাইলে আপনার লাইসেন্স এর মধ্যে ১ টা করে পয়েন্ট যুক্ত হবে। যদি ১২ পয়েন্ট যুক্ত হয় তাইলে আপনার লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। তবে প্রসেসটা একেবারে মাঠে মারা গেছে। BRTA এর একজন অফিসিয়াল পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এটা বলছিলেন যে এই পদ্ধতিটা আসলে এখন ইমপ্লিমেন্ট করা সম্ভবই না কারণ প্রত্যেক ড্রাইভার এর তো ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই।আপনি কিভাবে ট্র্যাক করবেন জিনিসটা! ১০ লক্ষেরও বেশি ড্রাইভার এর ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই। তার উপর আপনি যদি নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্যে অ্যাপ্লাই করেন, তাহলে সেটা পেতে ১ বছর বা তার চেয়েও বেশি সময় লেগে যায় মাঝে মাঝে। সেইখানে ডিজিটাল পয়েন্ট সিস্টেম আসলে কতটুকু কার্যকর সেটা বড় প্রশ্নের দাবি রাখে।
  • আপনি যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্যে অ্যাপ্লাই করতে যান, তাহলে আপনাকে অন্তত ক্লাস ৮ পাশ করতে হবে। এটা খুবই অবাক করা হলেও সত্যি, এই অ্যাক্ট এর আগে আপনার কোনো একাডেমিক কোয়ালিফিকেশন না থাকলেও আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্যে এপ্লাই করতে পারতেন।
  • এই আইনে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করার জন্যে জরিমানার পরিমাণ অনেক বাড়ানো হয়। যেমন: লাইসেন্স ছাড়া আপনি যদি গাড়ি চালান, আপনাকে ৫০০ টাকা আগে জরিমানা করা হইতো, এই আইনে বলা হইসে এখন থেকে ২৫,০০০ টাকা জরিমানা করা হবে। যদি আপনি ফেক লাইসেন্স দেখান, তাহলে আগে আপনাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হতো, এখন ১-৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হইসে। সিট বেল্ট ছাড়া গাড়ি চালাইলে কিংবা অবৈধ জায়গায় যদি আপনি গাড়ি পার্ক করেন, তাহলে আগে মাত্র ২০০ টাকা জরিমানা করা হইতো, এখন সেখানে ৫,০০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হইসে।
  • খুবই ইম্পর্টেন্ট জিনিস, আপনি যদি আপনার গাড়ির অবৈধ মডিফিকেশন করেন, যেমন: আপনি যদি বড় চাকা লাগান, হর্নকে মোডিফাই করেন কিংবা ইন্ডিকেটর বা ব্রেক এসবকিছু যদি অবৈধভাবে মডিফিকেশন করেন, সেসব ক্ষেত্রে আগে মাত্র ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হতো, এখন সেটা বাড়িয়ে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করা হইসে!
  • মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সংশোধনী আনা হইসে। আজকে থেকে ৩৩ বছর আগে আপনি যদি অবহেলা করে গাড়ি চালাইতেন এবং এর কারণে যদি কোনো মানুষ এর মৃত্যু হইতো, তাহলে আপনার সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ৭ বছরের কারাদণ্ড। কিন্তু ১৯৮৫ সালে ট্রাক ড্রাইভারদের প্রতিবাদের মুখে এরশাদ সরকার এই আইনটাকে সংশোধন করে এবং শাস্তির পরিমাণ ৭ বছর থেকে কমিয়ে ৩ বছরে নিয়ে আসে পেনাল কোড সংশোধন করার মাধ্যমে। নতুন রোড ট্রান্সপোর্ট আইনের মধ্যে বলা হইসে, এই ধরনের কোনো ঘটনায় কেও যদি মৃত্যুবরণ করে, তাইলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হবে এবং এই শাস্তিটা জামিন এর আওতায় পড়বে না।

 

এই পর্যন্ত ঘটনাগুলা কমবেশি সবাই মোটামুটি জানে। কিন্তু এর পরে কী হইসে সে ব্যাপারটা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। পরিবহন শ্রমিকরা কিন্তু এর পরে ৪৮ ঘণ্টার স্ট্রাইক বা অবরোধ রাখছিলো এবং তাদের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি পেশ করছিলো

🐸

এর মধ্যে একটা দাবি হইসে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর অধীনে যেকোনো অফেন্স হোক না কেনো, এটা জামিন যোগ্য হইতে হবে। সড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ৫ লক্ষ টাকার যে জরিমানার বিধানটা ছিলো, সেটা বাতিল করতে হবে। নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা যেটা ক্লাস ৮ পর্যন্ত নির্ধারিত করা হইসিলো, এইটাকে ক্লাস ৫ এ নামিয়ে আনতে হবে। এইরকম আরো অনেকগুলা! এরপরে কিন্তু এই আইন এর সংশোধন করে একটা ড্রাফটও করা হইসে যে ড্রাফট এর মধ্যে অনেকগুলা ব্যাপারে চেঞ্জ আনা হইসে। যেমন: যদি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা হয় তাইলে যতক্ষণ পর্যন্ত যে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হইসে, সে মারা না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি ড্রাইভারকে রেসপনসিবল করতে পারবেন না। তিন চাকার যানবাহন যেইগুলা আছে, ওইগুলাতে আপনি ক্লাস ৫ পর্যন্ত যদি পড়াশোনা করেন, তাহলেই ড্রাইভিং লাইসেন্সটা পাবেন। ক্লাস ৮ এর বিধানটা ওইখানে থাকবে না, কিন্তু অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রে বিধানটি আগের মতই আছে, ক্লাস এইট পর্যন্তই রাখা হইছে।

 

প্রথম প্রথম যখন আমি এই জিনিসগুলা নিয়া ঘাটাঘাটি করতেছিলাম, আমার কাছে মনে হইতেছিলো ব্যাপারটাতে একটা Hero Bias তৈরি হইতেছে। স্টুডেন্টরা যখন আন্দোলন করতেছে তখন তারা ভাবতেছে তারা হিরো এবং এটার বিরুদ্ধে যেয়ে যখন স্ট্রাইক দেওয়া হইতেছে এবং নতুন করে ৮ দফা দাবি দেওয়া হইতেছে পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তখন পরিবহন শ্রমিকরা ভাবতেছে যে তারা হিরো। এরকমভাবে পরস্পর বিরোধী দুইটা পক্ষ নিজেদেরকে হিরো ভাবার মাধ্যমে বারংবার একটা আইনের যদি সংশোধন করতে থাকে, তাইলে কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হবে না। কিন্তু আমার এইখানে ধারণাটা একটু ভুল ছিল। আমরা এখানে হয় স্টুডেন্ট কিংবা পরিবহন শ্রমিকদেরকে ভিলেন অথবা হিরো উপাধি দিতে পারি না। এবং সত্যি কথা বলতে কিছু কিছু জায়গায় ওদের ইন্টারেস্ট এক জায়গায় মিলে। যেমন: পরিবহন শ্রমিকদের ৮ দফা দাবির মধ্যে একটা দাবি কিন্তু এটাও ছিল যে সকল জেলায় ড্রাইভিং লাইসেন্স এক্সটেন্সিভ একটা ট্রেনিং এর পর দিতে হবে এবং যেকোনো ধরনের দুর্নীতি ওইখান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে যেটা অনেক ক্ষেত্রেই ড্রাইভারদের লাইসেন্স পাওয়ার গতিটাকে বাধাগ্রস্থ করে। এবং আরেকটা দাবি ছিল রাস্তায় অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের দ্বারা যে হ্যারেজমেন্টটা করা হয়, এটা থেকে যেনো ড্রাইভারদেরকে বাঁচানো হয়। সেইখানে স্টুডেন্টদের যে বর্তমান ১১ দফা দাবি আছে, তার মধ্যে কিন্তু একটা দাবি এইটাও যে রোড ট্রান্সপোর্ট আইন যেটা আছে সেটাকে সংশোধন করতে হবে এবং এর মধ্যে যাত্রীদের মতামত আপনাকে নিতে হবে, পরিবহন শ্রমিকদের মতামত আপনাকে নিতে হবে এবং এইখানে সরকারের যেই প্রতিনিধিরা আছে ওদের মতামত আপনাকে নিতে হবে। তাইলে দেখেন, এই জায়গাগুলাতে কিন্তু আপনি স্টুডেন্ট এবং পরিবহন শ্রমিকদের আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করতেছেন না, ওরা কিন্তু এখানে সেইম ইন্টারেস্ট রাখতেছে। তাই এখানে একজন হিরো আর একজন ভিলেন, এই ব্যাপারটা কখনোই আখ্যা দেওয়া যাবে না, সবাই আসলে চেষ্টা করতেছে কিছু সমস্যার সমাধান করার। তাই, সব মিলিয়ে যদি আমি সামারি করি, আমি এই আলোচনায় দেখানোর চেষ্টা করছি- প্রথমত, বাংলাদেশ কেন এই সড়ক পরিবহন জনিত ঝামেলায় বারবার পরতেছে। দ্বিতীয়ত, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ২০১৮ সালের যে ৯ দফা দাবি আছে, সেটার সাথে বর্তমান ২০২১ সালে যে নতুন একটা আন্দোলন দেখা দিছে ওই দাবিগুলার মিল কোন কোন জায়গায় আর পার্থক্য কোন কোন জায়গায়। ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক চাই যে আন্দোলনটা ছিল, ওইটার পরে আসলে পজিটিভ কী কী ফলাফল আসছে আমাদের এখানে এবং কোন কোন জিনিস এখনো ইমপ্লিমেন্টেড হয় নাই।সড়ক পরিবহন আইন যখন বাস্তবায়ন করতে যাওয়া হইলো, তখন পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে এক্সট্রা যে ৮ দফা দাবি আসছে স্টুডেন্টদের দাবির কাউন্টার হিসেবে, ওই দাবিগুলা আসলে কী রকম ছিল। এবং সবশেষে স্টুডেন্ট এবং শ্রমিক, এদের মধ্যে যে আসলে একটা Hero Bias নাই, কিছু কিছু জায়গায় ওদের ইন্টারেস্ট যে আসলে মিলে, এরা যে একে অপরের বিরোধী কোনো পক্ষ না, এই ব্যাপারটা আমি প্রমাণের চেষ্টা করছি। তো আজকে এই পর্যন্তই। আমি আশা করছি সড়ক পরিবহন আইন সংক্রান্ত কিছুটা নতুন ইনসাইট আপনারা এখান থেকে পাবেন এবং পুরা সিনারিওটা আরো ভালোভাবে বোঝার জন্যে এই লেখাটা আপনাদেরকে হেল্প করবে।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।আল্লাহ্ হাফেজ। 

পুরা ভিডিও দেখেন ইউটিউবে!

Research Lead:

Labid Rahat: https://www.youtube.com/channel/UCTio…

Alif Arshad: https://www.facebook.com/alif.arshad.b

 

For Gaining more knowledge on this topic:-

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮

Bus drivers still reckless

Road Safety Movement 2018: Was it worthwhile?

Road Transport Act 2018: Efforts for its weakening intensify

Road safety movement: A year on, protesters still not acquitted

Road Transport Act 2018 – details, repercussions, reactions

Research Paper- Road Safety Movement in Bangladesh (2018) : Demands and challenges

Free the transport sector from the vices of the most powerful syndicate

Tough to break bus companies’ syndicate: Annisul

Road safety still a distant dream

SSC examinee’s death: Students put forward 11-point demand

48-hour nationwide transport strike begins Sunday

Written by

Girgiti

17 Posts

We're Girgiti. We provide blog managing services to renowned YouTubers. Currently working with Enayet Chowdhury. Hoping to enhance the working area soon.E-mail: [email protected] | Follow us on facebook: Girgiti
View all posts

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *