২০২৩ এ আবার অটোম্যান সাম্রাজ্য বানাবে তুরস্ক? Lausanne Treaty Explained in Bangla | Enayet Chowdhury

১৯২৩ সালের ২৪ শে জুলাই সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যেখানে ইতিহাসের প্রচণ্ড বিখ্যাত ও সফল ‘অটোমান সাম্রাজ্যের’ পতন ঘটে এবং জন্ম হয় বর্তমান তুরস্ক রাষ্ট্রের। (যেটা অটোমান সাম্রাজ্যের  তুলনায় বেশ পিচ্চি, এক্কেবারে পিচ্চি)।
সামনে আসতেছে ২০২৩ সাল এবং পূর্ণ হবে ‘লুজান চুক্তি’র ১০০ তম বছর এবং এই  উপলক্ষে নতুন একটা ক্যাঁচাল লাগছে। তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলতেছে ২০২৩ সালে লুজান চুক্তির মেয়াদ যখন শেষ হবে তখন তুরস্ক আবার তাদের যে অটোমান সাম্রাজ্য ছিলো, ওই এরিয়াগুলো দখল করতে নামবে এবং তুরস্কের পুরাতন ক্ষমতা কায়েম করবে!

আপনারা অনেকে এটা শুনে খুশি হয়ে যাইতে পারেন। কিন্তু  হিন্দুস্তানি ভাও আমাদেরকে বলছেন-

রুকো জারা, সাবার কারো!

সব মিলিয়ে তুরস্ক যে প্ল্যান করতেছে নিজেদের দেশকে বিস্তৃত করার, সেটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ? ভৌগলিকভাবে কেন তুরস্কের মত দেশ এতটা গুরুত্বপূর্ণ? এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার সেই লুজান চুক্তির ইতিহাসটা আসলে কী? এই পুরো ব্যাপারটা আমি আজকে আপনাদের সামনে আলোচনা করবো। তো চলুন, শুরু করা যাক। 

 

প্রথমে আপনাদেরকে একটু বোঝা লাগবে তুরস্কের এরদোয়ান আসলে এখন চাইতেছে টা কী! উনি গ্রিসে তার একটা  সফরের সময় বলে দিসিলেন: লুজান চুক্তির অধীনে শুধুমাত্র গ্রিস না, পুরা Region বা এলাকাটাই ওই চুক্তির অধীনে পরবে এবং লুজান চুক্তির একটা আপডেট করা দরকার। তাছাড়া ২০২৩ সালে যেহেতু লুজান চুক্তির ১০০ বছর পূর্ণ হবে, তখন ওই চুক্তির মেয়াদটা শেষ হয়ে যাবে।আসলেই মেয়াদ শেষ হওয়ার কথাটা কতটা সত্যি এটা আমরা একটু পরে আলোচনা করবো। কিন্তু এরদোয়ান এটা দাবি করতেছে এবং সে তার হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পেতে চায়। তার মতে লুজান চুক্তি এবং তার আগের ১৯২০ এর ‘Treaty of Sèvres, দুটোই তুরস্কের উপর জোরপূর্বক চাপায় দেওয়া হইসে যেটা তুরস্ক ডিজার্ভ করে না। এর মধ্যে প্রাসঙ্গিক একটা জিনিস, ২০২০ সালে লুজান চুক্তির ৯৭ তম এনিভার্সারিতে তুরস্কের একটা খুবই ঐতিহ্যবাহী মসজিদ যার নাম ‘আয়া সোফিয়া(Hagia Sophia)’, এটাকে এরদোয়ান একটা জাদুঘর থেকে কমপ্লিটভাবে একটা মসজিদে অফিসিয়ালি রূপান্তর করেন! ১৪৫৩ তে অটোমানরা যখন কনস্টান্টিনোপল (Constantinople) দখল করছে, তার আগে এটা একটা গির্জা ছিলো। তারপরে ১৯৩৫ সালে আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক এই মসজিদটিকে একটা মিউজিয়াম বা জাদুঘরে কনভার্ট করেন। কামাল আতাতুর্ক তুরস্ককে পুরোপুরিভাবে একটা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার চিন্তা করছিলো। এমনকি তার সময়ে আপনি প্রকাশ্যে কোনো ধর্মীয় সিম্বল যেমন মাথার মধ্যে ওড়না কিংবা হিজাব, ইত্যাদি কোনো কাপড় পরতে পারতেন না।

এরপর আবার কী হইলো! ২০২০ এ আইসা এরদোয়ান এটাকে মসজিদে কনভার্ট করলো! এটার  দুইদিকেই কথা আছে। মুসলমানরা খুবই খুশি হইতেছে কারণ এটাকে মসজিদে রূপান্তর করা হইসে, অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির অনেকেই বলতেছে এটার মাধ্যমে লুজান চুক্তির ব্যাঘাত ঘটানো হইসে। কারণ এতে ওদের নন মুসলিম মাইনোরিটি যারা আছে, যারা সংখ্যালঘিষ্ঠ, ওদের অধিকার খর্ব করা হইতেছে। এমনকি এটা নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টের মধ্যেও প্রশ্ন তোলা হইসিলো! তাছাড়া সামনে যেহেতু ২০২৩ সাল আসতেছে এবং ওই সময় তুরস্কে একটা নির্বাচন আছে, অনেকেই বলতেছে এরদোয়ান এসময় একটা Buzz তৈরি করার চেষ্টা করতেছে লুজান চুক্তি সমাপ্ত হয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে! যাতে সে  তুরস্কের ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে পারে যে আমি তোমাদের জন্যে এই লুজান চুক্তির পতন ঘটাইসি! এবং এর মাধ্যমে সে যেন পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পারে!

২০২৩ এ আসলেই লুজান চুক্তি শেষ হবে কি না এটা একটু পরে বলতেছি।

 

এবার চলেন তো দেখি, অটোমান সাম্রাজ্য যখন পতন হইসিলো তখন ওদের উপর ভালোভাবে হোক কিংবা খারাপভাবে হোক, কী কী জিনিস আরোপ করা হইসিলো? কাহিনী কিন্তু মোটামুটি আপনারা সবাই জানেন। ১৯১৪ সালে অটোমান সাম্রাজ্য (যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হইসিলো) সেন্ট্রাল পাওয়ারের মধ্যে জয়েন করছিলো। অর্থাৎ ওরা মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান করছিলো যেখানে জার্মানিসহ আরো কয়েকটা দেশ ছিলো। এখন অটোমান সাম্রাজ্য যে পক্ষে ছিলো, ওই পক্ষটা হারছে এবং মিত্রশক্তি জিতছে যেখানে ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া সহ আরো দেশ ছিলো। ওরা তখন থেকেই চিন্তাভাবনা করতেছিলো অটোমান সাম্রাজ্যটাকে ভেঙ্গে কে কোন অংশটাকে নিবে! এ ব্যাপারে চুক্তি হইতেছিলো। যেমন ১৯১৫ তে একটা চুক্তি হইসে যেখানে রাশিয়াকে কনস্টান্টিনোপল দিয়ে দিসে, ইস্টার্ন আনতোলিয়া(Eastern Anatolia) ও দিয়ে দিসে। এই চুক্তিটাকে বলা হয় ‘Treaty of Constantinople’ তারপর ওই একই সালে ইতালিকে সাউথ ইস্টার্ন পার্টের যে অটোমান সাম্রাজ্য ছিলো, ওইটার একটা পার্ট দিয়ে দিসে যেটাকে বলা হইতেছে ‘Treaty of London’ এই দুটো চুক্তির কোনোটাই পরবর্তীতে আর অনুসরণ করা হয় নাই। অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা চুক্তি তারপরে হইসে যার নাম ‘সাইকস পাইকট এগ্রিমেন্ট’ (Sykes-Picot Agreement) এটার নাম আপনারা অনেকেই শুনছেন আশা করি। এটা হইসিলো ১৯১৬ সালে। ব্রিটিশরা তো জানেন ওইসময় কী পরিমাণ গুটিবাজি খেলছিলো!

১৯১৫তে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ জেতার জন্যে ব্রিটিশদের আরবদের সাপোর্ট খুব দরকার ছিলো। এখন ওরা আরবদের কাছে গিয়া বলছে, ভাই দেখো তোমরা যদি আমাদেরকে অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সাপোর্ট করো তাহলে আমরা যুদ্ধ জেতার পরে তোমাদেরকে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র দিয়ে দিবো। এটাকে আপনারা

এখন ম্যাপের মধ্যে  দেখতেছেন, আরবের পুরো একটা স্বাধীন রাষ্ট্র। এটা যে চিঠি চালাচালির মাধ্যমে হইতো, এটার নাম “ম্যাকমোহান হুসেইন করেসপন্ডেন্স”(McMahon-Hussein Correspondence) মেইন জিনিস যেটা বললাম ঐটাই। ব্রিটিশরা যখন এখানে গুটিবাজি করতেছিলো, ওই ফাঁকে ফ্রান্স আর রাশিয়া, ওরা আবার আলাদা একটা চুক্তি করতেছিলো যে অটোমান সাম্রাজ্যকে কেমনে ওরা ভাগাভাগি করবে! এখানে মনে রাখবেন, আরবদের যে ভূমিটা দেওয়া হইসিলো, ওইটা এই চুক্তির ভিতরে ছিলো না, এই চুক্তিটার নামই হচ্ছে ‘সাইকস পাইকট এগ্রিমেন্ট’। এর মাঝখানে ব্রিটিশরা যেয়ে আবার ইহুদীদের সাথে আরেকটা চুক্তি করছে। ওইখানকার যে জায়নিস্ট কমিউনিটি বা ইহুদীদের মধ্যে যারা সাপোর্ট করে, ওদের জন্যে আলাদা একটা রাষ্ট্র লাগবে; যেমন ইসরাইল। ওদের সাথে ব্রিটিশরা গিয়ে একটা চুক্তি করছে ১৯১৭ সালে যে দেখো তোমাদেরকে আমরা একটা আলাদা রাষ্ট্র দিবো! মানে এখনো কিন্তু ওরা যুদ্ধটা জিতে নাই, কে কাকে কী দিবে এইটা নিয়েই মারামারি লাইগা গেসে! ব্রিটিশদের লাস্ট যে চুক্তিটা নিয়ে কথা বললাম এটাও খুব বিখ্যাত যাকে ‘বেলফোর ডিক্লারেশন'(Balfour Declaration) বলে। পুরাটা যদি একসাথে বলি, ব্রিটিশরা আরবদেরকে যেয়ে বলছে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র দিবে যেটা ‘ম্যাকমোহান হুসেইন করেসপন্ডেন্স’ এর মধ্যে আসছে, অন্যদিকে ওরাই আবার যেয়ে জায়নিস্ট কমিউনিটিকে বলতেছে তোমাদেরকে আমরা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র দিবো যেখানে শুধু তোমরা থাকবা। এটা ‘বেলফোর ডিক্লারেশন’। আর অন্যদিকে ফ্রান্স ও রাশিয়া মিলে আরেকটা ভাগাভাগি করতেছিলো যেটার নাম ‘সাইকস পাইকট এগ্রিমেন্ট’। এর পরে সবচেয়ে বাজে একটা চুক্তি হইসে ১৯২০ সালে, এটাকে বলে ‘Treaty of Sèvres’ এই  ‘Sèvres ওয়ার্ডটা ফ্রেঞ্চ। এটা হইসিলো অটোমান সাম্রাজ্য এবং প্রিন্সিপাল যে মিত্রশক্তিগুলো ছিলো ওদের মধ্যে।

এই চুক্তিতে প্রথমেই বলা হইসে, ‘অটোমান সাম্রাজ্য’ বলতে কিচ্ছু থাকবে না, এটার পতন ঘটানো হইসে। দ্বিতীয়ত বলছে আর্মেনিয়া নামক একটা আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র দিতে হবে। কুর্দিস্তান এর মধ্যেও স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে এবং পূর্বদিকে গ্রীকদের এন্ট্রি দিতে হবে। অটোমানদের যে সেনাবাহিনী থাকবে সেটা ৫০৭০০ জনের বেশি হইতে পারবে না এবং ওই আর্মির কাছে কোনধরনের বন্দুক রাখা যাবে না, মেশিন গান রাখা যাবে না, কোনো বিমান রাখা যাবে না।

এটাকে কেন আসলে আর্মি বলা হবে এইটাই আমি এখনও বুঝতেছি না। অটোমান সাম্রাজ্যের আন্ডারে থেকে কোনো রাষ্ট্র যদি স্বাধীনতা চায়, তাহলে এটাকে স্বাধীন হইতে দেওয়া হবে কিনা এটা অটোমান সাম্রাজ্য সিদ্ধান্ত নিবে না, এটা ওই মিত্রশক্তির দেশগুলো সিদ্ধান্ত নিবে। এরকম ভুগিচুগি আরো অনেক কথা ছিলো।

Mehmed Vahideddin VI

মজার ব্যাপার, এটা ওই সময়কার তুরস্কের যে সুলতান Mehmed Vahideddin VI এসব একসেপ্ট করে ফেলেছিলেন। কিন্তু তার বিপরীতে আরেকজন নেতা ছিলো যে নেতা খুবই পরিচিত আপনাদের, উনি হচ্ছেন মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক। উনি বলছে আমরা এই ‘সেভ্রা চুক্তি’ মানি না, মানবো না। এখানে আমাদেরকে অনেকভাবে শোষণ করা হইতেছে। আতাতুর্ক যেয়ে আবার রাশিয়ার সাথে (ওইসময় তো রাশিয়া ছিলো না, ছিল USSR) আলাদা একটা চুক্তি করতেছিলো যে কারণে এই মিত্রশক্তি ভয় পেয়ে বলছে “ঠিকাছে, তোমাদেরটাও বাদ আমাদেরটাও বাদ, চলো একটা নতুন চুক্তি করি।” এই নতুন চুক্তিটার নামই হচ্ছে ‘Treaty of Lausanne’ যেটা সুইজারল্যান্ডে হইসিলো। প্রথম কথা, লুজান চুক্তির সবচেয়ে মেইন যে আর্গুমেন্ট টা, সেটা হচ্ছে অটোমান সাম্রাজ্য এখন থেকে আর থাকবে না, তুরস্কের একটা নির্দিষ্ট বর্ডার থাকবে এবং তুরস্ক এখন থেকে নতুন একটা রাষ্ট্র।

এখন এই লুজান চুক্তি নিয়ে আপনাদের মাঝে কিছু মিসকনসেপশন থাকতে পারে।

  •  যেমন একটা হচ্ছে এতক্ষণ ধরে যেটা বলতেছিলাম যে ২০২৩ সালে নাকি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ। একটা কথা ভালোকরে মনে  রাখবেন, চুক্তির কখনো মেয়াদ শেষ হইতে পারে না। চুক্তি করছো মানে চুক্তি করছো, শেষ। আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তিতে সাধারণত কখনোই এটা বলে দেয়া হয়না যে ১০০ বছর পর গিয়া এই চুক্তির কোনো মেয়াদ থাকবে না। তাইলে এখন যদি বাংলাদেশ পাকিস্তানের থেকে স্বাধীনতা পাইসে, ১০০ বছর পর আইসা পাকিস্তান যদি আবার দাবি করে যে তোমাদের সাথে যে চুক্তি করছিলাম ওইটা বাতিল হয়ে গেসে, অর্থাৎ মেয়াদ শেষ! আমরা কি ওদেরকে আবার অ্যাটাক করতে দিবো? দিবো না!
  • দ্বিতীয় যে মিসকনসেপশন, তুরস্ক নাকি নিজেদের দেশে তেল উত্তোলন করতে পারতেছে না এই চুক্তির কারণে! এটা পুরাপুরি ভুল একটা কথা। চুক্তির মধ্যে এধরনের কিছুই লেখা নাই। এমনকি তুরস্কের মধ্যে এখন যে তেলের রিজার্ভ আছে, এটা ওদের ১ বছরের জন্যে তেলের যে চাহিদাটা আছে সেটার থেকেও কম। আনুমানিক ২০১৬ তে ৩৪৩ বিলিয়ন ব্যারেল ছিলো। তার মানে ওদের নিজেদের চাহিদা মিটানোর জন্য তুরস্ককে অনেক বেশি পরিমাণে তেল আমদানি করতে হয় ওদের নিজেদের দেশে। তাই এই চুক্তির কারণে ওরা তেল তুলতে পারতেছে না নিজেদের দেশ থেকে, এই কথাটা পুরোপুরি ভুল।
  • তৃতীয় যে মিসকনসেপশন, এই চুক্তির কারণে নাকি তুরস্ককে জোর করে একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হইতে বাধ্য করা হইসে। ব্যাপারটা কখনোই এরকম না, বরং তখনকার যে তুরস্কের ডিক্টেটর মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক, তার উদ্দেশ্যই ছিলো তুরস্ককে সে একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবেই গড়ে তুলবে, যেটা থেকে এরদোয়ান পুরোপুরি বিপরীত একটা স্ট্যান্ড নিসে। এই স্ট্যান্ডটা আসলে ভালো নাকি খারাপ সেটা ব্যাক্তি থেকে ব্যাক্তির উপর নির্ভর করে। যেমন তুরস্কের ৯০% এরও বেশি মানুষ যেহেতু মুসলমান, ওরা বলতেছে এই জিনিসটা ভালো। আবার যারা ধর্মনিরপেক্ষতাকে সাপোর্ট করে একটা রাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, ওরা বলতেছে এই জিনিসটা খারাপ করছে।

 

এখন চলেন দেখি তুরস্ক এবং তার আশেপাশে যে জলপথগুলো আছে, ওগুলো জিওগ্রাফিকালি কেন এতবেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলোর উপর কেন সব দেশ এত বেশি পরিমাণে কব্জা করে রাখতে চায়! ব্ল্যাক সি(Black Sea) এবং আজিয়ান সি(Aegean Sea) এর মাঝে একটা মাত্র কানেকশন আছে, এই কানেকশনটার নাম তুর্কি প্রণালী যেটার মাধ্যমে ২০১৯ সালে ৪০ হাজারের বেশি নৌযান চলাচল করছে, ৬৫০ মিলিয়ন টনেরও বেশি কার্গো চলাচল করছে এবং এর মাধ্যেমে এই নৌপথটা পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা নৌপথ হিসেবে আখ্যায়িত হইসে। নৌপথের কথা মনে হইলেই আমার সুয়েজ খালের কথা মনে হয়। এটা নিয়ে ২০২০ সালে প্রচুর গন্ডগোল হইসে। ওর সুয়েজ খালের কথা মনে হইলেই আমার Marwa Elselehdar এর কথা মনে পরে। ব্যাপার না!😅

তাহারেই পরে মনে!😅😅

 

১৯১১ এর যুদ্ধের সময়ের ৩টা কেস বলা যাক।

  • নভেম্বর ২৩, ১৯১৪ সালে রাশিয়ার ফরেন মিনিস্টার একটা চিঠির মধ্যে বলছিলেন ১৯১১ সালে যুদ্ধের সময় যেহেতু এই জলপথগুলো বন্ধ ছিলো, সেই কারণে ১৯১২ সালে রাশিয়ার প্রায় ১০০ মিলিয়ন রুবল ক্ষতি সাধিত হইসিলো।
  • দ্বিতীয় কেস, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানরা এই পথগুলোকে বন্ধ কইরা দেয়, যেই কারণে আজিয়ান সাগরের কাছে ওয়েস্টার্ন ইউরোপের সাথে তৎকালীন USSR এর যোগাযোগ সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে যায়।
  • তৃতীয় পয়েন্ট, তুরস্ক কিন্তু হইতেছে ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে একটা কানেকশনের মতো। এটা একটা ইউনিক লোকেশন এবং এই কারণে NATO এর জন্যে তুরস্ক কিন্তু একটা সাউথ ইস্টার্ন অ্যাংকর হিসেবে কাজ করে যেটা ওদের পক্ষে যায় এবং ওই এলাকার মধ্যে রাশিয়ার সাথে অন্যান্য দেশগুলোর ক্ষমতার একটা ভারসাম্য করে। বুইঝা গেলেন এই এলাকাটা কেন সবার কাছে এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ!

 

লুজান চুক্তির ব্যাপারে কিছু ফ্যাক্ট… শুরুতেই বলছিলাম ১৯২৩ সালের ২৪ শে জুলাই এই চুক্তিটা স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির এক সাইডে ছিলো অটোমান সাম্রাজ্য এবং অন্য সাইডে ছিলো মিত্রশক্তি যেখানে ছিলো ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, রোমানিয়া এবং এর সাথে আরো কিছু গুঁড়াগারা জিনিসপত্র।

একটা সময় লুজান চুক্তির এই দিনটিকে ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হইতো এবং ওইদিনে  ছোট ছোট বাচ্চারা নিজেদেরকে বিভিন্ন দেশের কস্টিউম এ সাজাইতো। পরে একজন আরেকজনের বিপক্ষে কনটেস্ট করতো।

এখন এই চুক্তির পরবর্তীতে কী কী ঘটনা হইসে!

  • ফার্স্ট অফ অল, এটা বর্তমান বা আধুনিক তুরস্ক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে ঘোষণা করছে যে ওরা একটা আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র যেটাকে সবাই মেনে নিসিলো এবং অটোমান সাম্রাজ্য বলতে এখন আর কিছু থাকবে না।
  • দ্বিতীয়ত ‘হাতেয় প্রদেশ(Hatay Province) নামে একটা প্রদেশ ছিলো যেটা লুজান চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার একটা অংশ ছিলো। কিন্তু ১৯৩৮ সালে এটা স্বাধীনতা পায় এবং হাতেয় স্টেট নামে একটা স্টেট এ পরিনত হয়। কিন্তু ১৯৩৯ সালে ওদের একটা গণভোট হয় এবং ওদের মানুষ আসলে বলছিলো আমরা স্বাধীন হিসেবে থাকতে চাই না, আমরা তুরস্কের আন্ডারে থাকতে চাই এবং ওরা তুরস্কের আন্ডারে জয়েন করে। কিন্তু মজার ব্যাপার, সিরিয়া অনেকদিন পর্যন্ত এই জিনিসটাকে স্বীকৃতিই দেয় নাই এবং ওই হাতেয় প্রদেশকে ওরা অনেকদিন পর্যন্ত নিজেদের দেশের ম্যাপের ভিতরে দেখাইতো।
  • তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার, মিত্রশক্তির যত সৈন্য বাহিনী আছে সেটা তুরস্কের ভূমি থেকে সরায় নিসে সেপ্টেম্বর ২৩,  ১৯২৩ সালে এবং অফিসিয়ালি তুরস্ককে বলছে যে তোমরা এখন থেকে স্বাধীন।

 

সবমিলিয়ে শেষ পর্যন্ত বলতে হয় এই লুজান চুক্তি নিয়ে মানুষের আসলে ক্যারা উঠছে কারণ এরদোয়ান বলছে অটোমান সাম্রাজ্যকে আবার প্রতিষ্ঠা করা হবে, খিলাফতের আবার প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু আমার যতদূর মনে হয় এই লুজান চুক্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটা আসলে কী, কেন আসলে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনটা হইসিলো, তুরস্ক কেন আসলে জিওগ্রাফিকালি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা, এগুলো নিয়ে মানুষের খুব বেশি একটা চিন্তা ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয়না। মানুষ শুধু হুজুগের তালে এরদোয়ান এর সিদ্ধান্তের সাথে লাফাইতেছে। আমি এইখানে পিছনের কারণগুলোকে একটু হলেও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। আশা করি ২০২৩ এ আমি এটা নিয়ে আরেকবার আলোচনা করবো যে তখন আসলেই কি অবস্থা হয় ওইটা নিয়ে।

মূল কথাবার্তা এইখানেই শেষ।

 

মিম রিভিউ! 

১. 

এইসব আমাদের হয়না, আমরা এসব কখনো শেয়ার মার্কেটের মধ্যে ইনভেস্ট করিনা। এগুলো আপনারা যারা কয়েন নিয়া ব্যাবসা করেন, ওরাই করেন।

বিটকয়েন আবার কী! বাংলাদেশের মধ্যে বিটকয়েন চলবে? ধ্যাঁৎ মিয়া!!

 

২.

শালীনভাবে CPR! এই লোকের নামের মধ্যেই তো শালীনতা নাই!

বেশ ভালই, এই ছবিগুলো শারীরিক শিক্ষা বইয়ের মধ্যে থাকতো, তাইলে আরো ভালো হইতো। ক্লাসের মধ্যে বায়োলজি বই ছাড়াও আরো একটা ইন্টারেস্টিং বই তৈরি হইতো।😌

৩.

আমার চেহারা দেইখা আসলেই অনেকে এখন চিনতে পারে না, খুব সন্দেহের মধ্যে থাকে, এটা আমি এখনকার বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভালোভাবে টের পাই!

 

৪.

একদম মানে পারফেক্ট। ফারহান ভাই কন্ট্রোভার্সির সময় তার মাথার উপর যদি Atom Bomb ও ফালানো হয়, সে বলবে আচ্ছা Atom Bomb টা কেমন একটু দেখি তো! কিচ্ছু যায় আসে না! আমি মনে করি এইটাই ভালো, আমিও এইরকম হওয়ার চেষ্টা করি!

 

আজকে এই পর্যন্তই। আজকের লেখাটা কাইন্ড অফ একটা Prequel টাইপের চিন্তা করতে পারেন।  ২০২৩ সালে লুজান চুক্তির যখন ১০০ বছর পূর্তি হয়া যাবে তখনকার যে অবস্থা আছে, তার পূর্ববর্তী একটা লেখা এটা! তখন আমি জানি খুব ভালো একটা Craze তৈরী হবে। তখন আমি এই লেখাটা ফার্স্টে রেকমেন্ড করবো, তারপর নতুন একটা লেখা আপনাদের পড়তে বলবো। আশা করি আপনারা লুজান চুক্তি সম্পর্কে একদম Intial আইডিয়াগুলা এই লেখায় পাইসেন। ভবিষ্যতে এইটা নিয়া যে ক্যাঁচালগুলা তৈরি হইতে যাইতেছে ওই ক্যাঁচালগুলা কেন তৈরি হইতেছে ওইটা পড়ার একটা আমন্ত্রণ আপনাদের থাকলো।

ভালো থাকবেন। সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।

 

এই সম্পর্কে পুরো ভিডিওটি দেখুন ইউটিউবে! 

 

Research Lead:

Alif Arshad: https://www.facebook.com/alif.arshad.b

For Gaining more knowledge on this topic:-

POLITICAL, ECONOMIC AND STRATEGIC DIMENSION OF THE TURKISH-SOVIET STRAITS QUESTION EMERGED AFTER WORLD WAR II

• BRITISH LIES TO THE ARABS IN WORLD WAR I

From Sevres to Lausanne

TREATIES OF SÈVRES & LAUSANNE

Why was the Treaty of Sevres replaced by the treaty of Lausanne?

Montreux Convention

Treaty of Lausanne

Turkey 2023, End of Treaty of Lausanne in 2023

There is oil everywhere around Turkey, north, south, east, and west. Why is there no oil in Turkey?

Turkey Oil

Treaty of Lausanne

On way to Athens, Erdogan seeks ‘update’ of Lausanne treaty

Parliamentary questions

Erdogan promises a ‘new Turkey’

Notes on a Turkish Conspiracy

The demilitarization or sovereignty dilemma

WWI Centenary: 7 peace treaties that ended the first world war, from Versailles to Lausanne

Written by

Girgiti

23 Posts

We're Girgiti. We provide blog managing services to renowned YouTubers. Currently working with Enayet Chowdhury. Hoping to enhance the working area soon.E-mail: girgiti.business@gmail.com | Follow us on facebook for regular post updates of this blog: Girgiti
View all posts

2 thoughts on “২০২৩ এ আবার অটোম্যান সাম্রাজ্য বানাবে তুরস্ক? Lausanne Treaty Explained in Bangla | Enayet Chowdhury”

Leave a reply to 金万达 Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *